Breaking News আলোকিত নারী সম্মাননা পাচ্ছেন কোহিনূর আখতার সুচন্দা ও রুনা লায়লা                    দুই মন্ত্রীসহ স্বাধীনতা পুরস্কার পাচ্ছেন ১৫ ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠান                    জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত নির্মাতা ও চিত্রশিল্পী খালিদ মাহমুদ মিঠু গাছচাপায় সোমবার মারা গেছেন                    শাকিব খান ও জয়া আহসান অভিনীত দ্বিতীয় ছবি ‘পূর্ণদৈর্ঘ্য প্রেমকাহিনী ২’ মুক্তি পাচ্ছে আগামী ৮ এপ্রিল                    বলিউড অভিনেত্রী প্রীতি জিনতার বিবাহোত্তর সংবর্ধনায় অংশ নেবেন বলিউডের তিন খান শাহরুখ, আমির ও সালমান খান                    দ্য রেভেন্যান্ট ছবিতে অভিনয় করে অস্কার পেলেন হলিউড সুপারস্টার লিওনার্ডো ডি ক্যাপ্রিও                    মাসুদ পথিক পরিচালিত সরকারি অনুদানের ছবি ‘নেকাব্বরের মহাপ্রয়াণ’ ও সৈকত নাসির পরিচালিত ‘দেশা-দ্য লিডার’ এর জয়জয়কার                    এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ২৫ ফেব্রুয়ারি তথ্য মন্ত্রণালয় জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার ২০১৪ ঘোষণা করেছে                    সৌরভ গাঙ্গুলীর সঞ্চালনায় জি বাংলা চ্যানেলের জনপ্রিয় অনুষ্ঠান ‘দাদাগিরি’তে অংশ নিতে রুনা লায়লা ২৯ ফেব্রুয়ারি কলকাতায় যাচ্ছেন                    ১৮ বছর আগের চেক বাউন্স মামলা থেকে রেহাই পেলেন বলিউড অভিনেতা দীলিপ কুমার, মঙ্গলবার মুম্বাই আদালতে এই রায় দেওয়া হয়                    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘শেষের পরিচয়’ উপন্যাস অবলম্বনে অঞ্জন আইচের পরিচালনায় ‘রূপকথার মা’ নাটকে যাত্রাদলের নায়িকার ভূমিকায় অভিনেত্রী বাঁধন                    ঢাকার মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে বুধবার শুরু হওয়া এশিয়া কাপের এগারোতম আসরের খেলা সরাসরি সম্প্রচার করবে মাছরাঙা ও গাজী টেলিভিশন                    প্রয়াত নজরুলসংগীতশিল্পী ফিরোজা বেগমের নামে ২৩ ফেব্রুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে গঠন করা হয়েছে ‘ফিরোজা বেগম স্মৃতি স্বর্ণপদক ট্রাস্ট ফান্ড’                    হুমায়ূন আহমেদের উপন্যাস অবলম্বনে মেহের আফরোজ শাওন পরিচালিত প্রথম চলচ্চিত্র ‘কৃষ্ণপক্ষ’ মুক্তি পাচ্ছে ২৬ ফেব্রুয়ারি                    এবার একুশে পদক পেলেন জ্যোতিপ্রকাশ দত্ত, হায়াৎ মামুদ, হাবীবুল্লাহ সিরাজী (ভাষা ও সাহিত্য) মফিদুল হক (মুক্তিযুদ্ধ), শাহীন সামাদসহ (সংগীত) ১১জন                    বরেণ্য সুরকার ও সংগীত পরিচালক আনোয়ার জাহান ঝন্টুর উন্নত চিকিৎসার জন্য সাহায্য কামনা করেছেন তার পরিবার                    শিল্প-সাহিত্য-সংগীতে শিগগিরই মেধাসম্পদ আইন প্রণয়ন করা হবে বলে রবিবার সিরডাব মিলনায়তনে জানিয়েছেন শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু                    নেপালে ভয়াবহ ভূমিকম্পে সেখানে অবস্থানরত শুটিং করতে যাওয়া বাংলাদেশি শিল্পীরা সুস্থ ও নিরাপদে আছেন                    কানাডার টরেন্টোতে ১৪ মে শুরু হওয়া আন্তর্জাতিক সাউথ এশিয়ান ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে বাংলাদেশের তিনটি চলচ্চিত্র প্রদর্শিত হবে                    সাত বছর আবার একসঙ্গে জুটিবদ্ধ হয়েছেন চলচ্চিত্রাভিনেতা ফেরদৌস এবং মডেল ও অভিনেত্রী বিদ্যা সিনহা মিম                    বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমী ও বাংলাদেশ নৃত্যশিল্পী সংস্থার আয়োজনে ২৯ এপ্রিল পালিত হবে বিশ্ব নৃত্য দিবস                    বরেণ্য সুরকার ও সংগীত পরিচালক আনোয়ার জাহান নান্টু রাজধানীর পপুলার হাসপাতালের নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে (আইসিইউ) এখন জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে                    ক্রিকেটার রুবেল হোসেনের বিরুদ্ধে চিত্রনায়িকা হ্যাপির করা মামলার চূড়ান্ত শুনানির জন্য ১৭ মে দিন ধার্য করেছে ঢাকা নারী ও শিশু নির্যাতন ট্রাইব্যুনাল-৫                    জাতীয়তাবাদী সাংস্কৃতিক সংস্থার নেতা ও অভিনেতা হেলাল খানের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছেন মহানগর দায়রা জজ                    জি-সিরিজের ব্যানারে ও এলিমেন্ট ফাইভ-এর সৌজন্যে প্রকাশিত হলো ইকবাল আসিফ জুয়েলের আয়োজনে ৩৪টি ব্যান্ডের ৩৪টি গান নিয়ে ৩টি অ্যালবাম                    বরেণ্য সুরকার ও সংগীত পরিচালক আনোয়ার জাহান নান্টু রাজধানীর পপুলার হাসপাতালের নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে (আইসিইউ) এখন জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে                    রাজধানীর শাহবাগে কেন্দ্রীয় গণগ্রন্থাগারের শওকত ওসমান স্মৃতি মিলনায়তনে ১৮ এপ্রিল শুরু হয়েছে ‘চারুনীড়ম টেলিভিশন কাহিনীচিত্র উৎসব’                    আসন্ন কান চলচ্চিত্র উৎসবের লালগালিচায় হাঁটবেন বলিউড অভিনেত্রী ঐশ্বরিয়া রায় বচ্চন ও সোনম কাপুর                    রাজধানীর গুলশানে ১৭ এপ্রিল ছিনতাইয়ের কবলে পড়ে আহত হন অভিনেত্রী ও মডেল তানজিনা তিশা                    এমআইবি গানমেলায় লেজারভিশনের ব্যানারে ১৬ এপ্রিল প্রকাশিত হয়েছে মিশ্র অ্যালবাম ‘কিছু প্রত্যাশা’                    ভারতের টাইমস গ্রুপের ২০ আবেদনময়ী নারীর তালিকায় ১৯ নম্বরে বাংলাদেশের অভিনেত্রী জয়া আহসান                    বাংলাদেশ শিল্পী সমিতি নির্বাচনে জয়ী হলেন সভাপতি পদে সাকিব খান ও সাধারণ সম্পাদক পদে অমিত হাসান                    চল্লিশের দশকের কবি আবুল হোসেন রবিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে স্কয়ার হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন                    `স্টাইলিশ হেয়ার অব দ্য ক্যাম্পাস’ প্রতিযোগিতায় ৩ লাখ তরুণীর মধ্যে বিজয় মুকুট জিতেছেন ময়মনসিংহের তরুণী রোকেয়া রাশেদ রিমি                    নিউ ইয়র্কের আর্ট কানেকশন গ্যালারিতে চলছে বিপাশা হায়াতসহ ৮ বাংলাদেশি নারীশিল্পীর চিত্রকর্ম প্রদর্শনী                    
Find us on facebook Find us on twitter Find us on you tube RSS feed
05 Apr 2016   06:41:50 PM   Tuesday BdST A- A A+ Print this E-mail this

দেখা হলেই সোহেল চৌধুরীর স্মৃতি আওড়াতেন দিতি আপা

ওমর ফারুক
 দেখা হলেই সোহেল চৌধুরীর স্মৃতি আওড়াতেন দিতি আপা

২০০০ সালের দিকের কথা। তৎকালীন শেরাটন হোটেলে একটি অনুষ্ঠানে একজন বিনোদন সাংবাদিক পারভিন সুলতানা দিতি আপার সঙ্গে আমাকে পরিচয় করিয়ে দেন। আমি তখন দৈনিক যুগান্তর পত্রিকায় প্রদায়ক হিসেবে কাজ করি। পরিচয়ের সময়ই তাকে খুব আন্তরিক মনে হয়। এরপর সাহস করে ফোন করতাম ওনাকে। তার কাজ নিয়ে কয়েকটি রিপোর্টও করেছিলাম সে সময়। ধীরে ধীরে তার সঙ্গে সম্পর্ক গাঢ় হয়। একদিন তিনি বাসায় যেতে বলেন। তখন তিনি ফার্মগেটের পাশে ইন্দিরা রোডে থাকতেন। একদিন বিকালে তার ইন্টারভিউ নিতে গেলাম তার বাসায়।

সেদিন তার বাসার ড্রয়িং রুমে অনেণ বসেছিলাম। দিতি আপার খবর নেই। সত্যি সেদিন খারাপ লাগছিল। ডেকে এনে এভাবে বসিয়ে রাখা, আমার কাছে বিরক্তিকরও মনে হচ্ছিল। কিছুণ পরই তিনি এলেন। সঙ্গে প্লেটে করে কিছু ফল নিয়ে এলেন। আমি কিছুটা চমকালাম। তার ঘরে কাজের লোক থাকা সত্ত্বে¡ও তিনি নিজেই নিয়ে এলেন। যেমনটি সাধারণত দেখা যায় না। এতণের বিরক্তি কোথায় যেন চলে গেল। বুঝলাম তিনি অসলেই অনেকের চেয়ে আলাদা। দিতি আপা সেদিন অনেণ কথা বলেছিলেন। আমি নোট নিচ্ছিলাম। এক সময় তিনি বলেন, ‘আগে শোন, পরে নোট নিও।’ আমি তার কথা শুনে নোট নেওয়া বন্ধ করে দিই। দিতি আপা আমার প্রশ্নগুলোর উত্তর এমন চমৎকারভাবে দিচ্ছিলেন যা আমার মগজে গেঁথে গিয়েছিল। নোট নেওয়ার আর প্রয়োজন হচ্ছিল না। সেদিনই দিতি আপা আমাকে বলেছিলেন, ‘তোমার কোনো বড়ো বোন আছে ?’

বললাম - ‘নেই’

তিনি বললেন, ‘আজ থেকে আমি তোমার বড়ো বোন।’

সেদিন থেকে দিতি আপার সঙ্গে আমার ভাই-বোনের একটা সম্পর্ক তৈরি হয়। তিনি প্রায়ই আমাকে ফোন করতেন দুপুরবেলা খেতে যেতে। আমিও যেতাম। দুই ভাইবোনে কথা হতো অনেণ। তিনি অনেক কথা আমার সঙ্গে শেয়ার করতেন। যা আজ খুব মনে পড়ছে। দিতি আপা নেই। চলে গেছেন না ফেরার দেশে। কিন্তু কথাগুলো রেখে গেছেন তিনি। আমার সঙ্গে তার যখন কথা হতো তখন তার প্রথম স্বামী সোহেল চৌধুরীর স্মৃতি আওড়াতেন দিতি আপা।

একদিন আমি তার কাছে জানতে চেয়েছিলাম সোহেল চৌধুরীর সঙ্গে তিনি কীভাবে জড়িয়ে পড়েছিলেন। সেদিন তিনি আমাকে বলেন, ১৯৮৪ সালে নতুন মুখের সন্ধানের মাধ্যমে সিনেমায় পা দেওয়ার পর পরই তিনি একজন চলচ্চিত্র নির্মাতার চোখে পড়ে যান। সেই নির্মাতার বিরুদ্ধে ওই সময় সন্ত্রাসী কর্মকা-ের অভিযোগ ছিল। যে কারণে দিতি আপা বেশ অসহায় হয়ে পড়েন। কিন্তু সেই নির্মাতার কথা না শুনলে যে তিনি সিনেমায় কাজ করতে পারবেন না সেটা অল্প দিনেই বুঝে যান। ঠিক ওই সময় তিনি জানতে পারেন সোহেল চৌধুরীর ব্যাকগ্রাউন্ড। তিনি বনানী এলাকার সম্ভ্রান্ত পরিবারের সন্তান। তার দাপটও অনেক। ওই নির্মাতা সোহেল চৌধুরীকে ভয় পেয়েই চলেন। এই তথ্য পাওয়ার পর দিতি আপা সোহেল চৌধুরীর সঙ্গে যোগাযোগ বাড়িয়ে দেন। সোহেল চৌধুরীও যোগাযোগ বাড়ান। এরই মধ্যে দু’জন মিলে একটি ছবিতে অভিনয়ও করেন। কথা বলতে বলতেই এক পর্যায়ে দু’জন দু’জনকে ভালোবেসে ফেলেন। শুধু প্রেম নয় দিতি আপা বিয়ের পিঁড়িতেও বসেন চলচ্চিত্র নায়িকা হওয়ার মাত্র ২ বছরের মাথায়। ওই সময় তিনি তুমুল জনপ্রিয় নায়িকা ছিলেন। এরপরও বিয়ের পর তিনি সংসারকে প্রাধান্য দিয়ে চলচ্চিত্র ছেড়ে দেন। এরই মধ্যে তাদের ঘরে লামিয়া ও দীপ্তর জন্ম হয়। কিন্তু যার জন্য তিনি চলচ্চিত্র ছাড়েন সেই সোহেল চৌধুরী তার সঙ্গে বাজে ব্যবহার করতে শুরু করেন। সোহেল চৌধুরীর অবহেলা সইতে না পেরে তিনি তাকে ডিভোর্স করেন এবং ছেলে-মেয়েকে নিয়ে সোহেল চৌধুরীর বাড়ি থেকে বেরিয়ে আসেন। আবার ফিরে আসেন চলচ্চিত্রে।

আমার স্পষ্ট মনে আছে, এ কথাগুলো যখন দিতি আপা আমাকে বলছিলেন, আমি মনোযোগ দিয়ে শুনছিলাম। এক সময় তিনি আর কান্না চেপে রাখতে পারেননি। শাড়ির আঁচল দিয়ে চোখের পানি মুছতে থাকেন। আমিই সেদিন তাকে বারণ করেছিলাম আর কষ্টের কথা না বলার জন্য। আমি আমার বোনের চোখে পানি দেখতে চাই না। এরপর তিনি বলেছিলেন, ‘কথা যখন উঠেছেই আজ জেনে রেখো কাজে লাগবে।’ এরপর তিনি পরবর্তীসময়ে চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চনকে বিয়ে কেন করলেন এসব বিষয় নিয়ে বলেছিলেন।

দিতি আপাকে শুরু থেকে দেখছিলাম আর অবাক হচ্ছিলাম। তিনি কারো সঙ্গে প্তি হয়ে কথা বলেছেন বা বাজে আচরণ করেছেন সাংবাদিক হিসেবে আমাদের কাছে সে খবর এখনও পর্যন্ত নেই। ভেতরের কষ্ট চেপে রেখে দিতি আপা যেভাবে মানুষের সঙ্গে হাসিমাখা মুখে মিশতেন তা কাছে থেকে না দেখলে আন্দাজ করা যাবে না।

আমি দৈনিক মানবজমনি-এ থাকতেই বিনোদন সাংবাদিকতা ছেড়ে অপরাধ সাংবাদিকতায় চলে আসি ২০০৫ সালে। এরপর তার সঙ্গে দেখা হলেই বলতেন- ‘কি ক্রাইম রিপোর্টার, খবর কী ? দেশের অবস্থা কী ? তিনি একই প্রশ্ন করতেন আমিও একই উত্তর দিতাম- ‘ক্রাইম রিপোর্টার ও দেশ ভালো আছে।’

দৈনিক কালের কণ্ঠ পত্রিকায় আমি ‘অপরাধনামা’ নামের একটি পাতার দায়িত্বে ছিলাম। অপরাধ সংক্রান্ত বিষয় ছাপা হতো সে পাতায়। ২০১০ সালের জুলাই মাসের শুরুর দিকে ভাবলাম সোহেল চৌধুরী হত্যাকা- নিয়ে একটি পাতা বের করবো। কিন্তু তার হত্যার বিষয় মামলার অবস্থা এসব বিষয় তো শুধু দিতি আপার কাছ থেকেই জানা যাবে। কিন্তু তিনি সোহেল চৌধুরীকে ডিভোর্স করেছিলেন। তিনি কি আমাকে তার বিষয়ে তথ্য দেবেন ? আমার মনে সন্দেহ ঘুরপাক খায়। এরপরও ভাবলাম দিতি আপা যেহেতু আমার পুরনো পরিচিত মানুষ সহযোগিতা করবেন। আমি কিছুটা সন্দেহ নিয়েই এক সন্ধ্যায় ফোন করি দিতি আপাকে। তিনি বলেন, ‘অনেক দিন আগের ঘটনা। কেউ আজকাল সোহেল হত্যার বিষয়ে কোনো নিউজ টিউজ করে না। এই হত্যাকা-ের বিচার হলো না। তুমি সেটা নিয়ে কাজ করতে যাচ্ছো জেনে আমার ভালো লাগছে।’ দিতি আপার কথা শুনে লাফিয়ে উঠলাম আমি। অনেকদিন পর হলেও সেই হত্যাকা-ের ঘটনাটি মনে করিয়ে দিতে পারবো পত্রিকার পাঠককে। আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকেও। সেদিন দিতি আপা বললেন, ‘তুমি আমার বাসায় চলে এসো। যতটা পারি তোমাকে সহযোগিতা করবো।’

সেদিন বুঝতে পেরেছিলাম সোহেল চৌধুরীকে কোনো এক কারণে ডিভোর্স দিলেও তিনি তাকে মনে রেখেছেন। দু’দিন পরই সন্ধ্যার পর গেলাম তার গুলশানের বাসায়। গিয়ে দেখি একটি নাটকের শুটিং হচ্ছে। আমাকে দেখেই নাটকের শুটিং বন্ধ করতে বললেন তিনি। ফ্রেস হয়ে বসলেন ড্রয়িং রুমে। আমি তাকে বলেছিলাম, ‘দিতি আপা, আপনি এ বিষয়ে বলতে রাজি হবেন আমি ভাবিনি। সত্যিই আপনি যে সোহেল ভাইকে খুব ভালোবাসতেন সেটার প্রমাণ আরো একবার পেলাম।’ দিতি আপা বললেন, ‘কি যে বলো! সোহেল চৌধুরীর কথা আমার সব সময়ই মনে পড়ে। আর একটা কথা মনে রাখবে। সোহেল চৌধুরীর রক্ত আমার দুই সন্তানের গায়ে। তারা আমার কাছে। আমিই তাদের বাবা আমিই তাদের মা।’ সে সময় দিতি আপা একটা দীর্ঘশ্বাস ছেড়েছিলেন। তার দীর্ঘশ্বাসের সঙ্গে আমি দীর্ঘ সময়ের পরিচিত। আমার বুঝতে বাকি থাকেনি এখনই চোখ ছল ছল করবে আমার দিতি আপার। সত্যিই সেদিন তাই হয়েছিল। চোখ সামলাতে লেগেছিল কাপড়ের আঁচলের ছোঁয়া। শেষ পর্যন্ত আবেগ সামলে সেই দিনের ঘটনাগুলো বললেন আমাকে। কিছু সূত্র দিলেন রিপোর্টটি করার জন্য। পরবর্তীসময়ে সেই অনুযায়ী রিপোর্টটি করেছিলাম। যা কালের কণ্ঠ পত্রিকার ‘অপরাধনামা’ পাতায় ২০১০ সালে ১৭ জুলাই প্রকাশ হয়েছিল। 

সেদিন দিতি আপা নিজে থেকেই বলছিলেন, ‘তোমার কি পুরনো দিনের ছবি লাগবে।’ আমি ছবির বিষয়টি তুলতে যাওয়ার আগে তিনিই বললেন। আমি অবাক হলাম। তাকিয়ে থাকলাম তার দিকে। দিতি আপা বললেন, ‘তাকিয়ে আছো কেন ? ছবি লাগবে আমি জানি তো।’ আমি বললাম, ‘হুম লাগবে।’

দিতি আপা সেদিন পুরনো কয়েকটি অ্যালবাম নিয়ে আসেন। যেখানে ছিল সোহেল চৌধুরী  ও দিতি আপার সুদিনের অনেক ছবি। সেখান থেকে তিনি বাছাই করে ৬টি ছবি আমাকে দিয়েছিলেন। যাতে লামিয়া দীপ্ত ছিল খুব ছোট। দিতি আপা বলে দিয়েছিলেন, ‘এই  ছবির আর কোনো কপি নেই। তাকে ফেরত দিতে হবে।’ অমি ছবিগুলো ফেরত দেওয়ার কথা বলে নিয়ে এসেছিলাম। পত্রিকায় ছবিসহ সংবাদ প্রকাশ হয়েছিল।

আমার মনে আছে সেদিন আমি সোহেল চৌধুরী সম্পর্কে তাকে কিছু বলার জন্য বলেছিলাম। দিতি আপা বলছিলেন, ‘এমন কোনো দিন যায় না যেদিন সোহেলকে মনে পড়ে না। কম করে হলেও দিনে ৩-৪ বার মনে পড়ে। তাকে খুব মিস করি। সবচেয়ে বেশি মিস করি যখন দেশের বাইরে যাই। প্লেন একটুখানি নড়াচড়া করলে খুব ভয় পেতাম। তখন ওর হাতটা শক্ত করে ধরে রাখতাম। সে আমাকে অভয় দিত। কিন্তু এখন একা একা বিদেশে যেতে হয়। প্লেনে উঠতেই মনে পড়ে যায় সেই দিনগুলোর কথা।’

তিনি আরো বলেছিলেন, ‘বিয়ের পর বেড়াতে যেতে, রেস্টুরেন্টে খেতে যাওয়া থেকে শুরু করে অনেক স্মৃতি মনের জানালায় উঁকি দেয়। আর তখন অ্যালবাম থেকে সোহেলের ছবি বের করে দেখি। মনে করি সেই সব সুখের দিনের কথা। সোহেলের সঙ্গে বিয়ের পর পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে বেড়াতে গিয়েছি। ছেলেমেয়েকে সঙ্গে নিয়ে গিয়েছি। সে খুব বেড়াতে পছন্দ করত। খেতে পছন্দ করত। তার মধ্যে ছিল বেশ উচ্ছলতা। প্রথম প্রথম যখনই আমাকে দেশের বাইরে যাবার কথা বলত, তখনই প্লেনে ওঠার ভয়ে আমার হার্টবিট বেড়ে যেত। এক মাস আগে থেকেই আমার এ অবস্থা হত। যেতে না চাইলেও সোহেলের আবদার যেতেই হবে। শেষ পর্যন্ত না গিয়ে উপায় থাকত না। এখন মেয়ে থাকে কানাডায়, সেখানে যাই। মেয়ে আমাকে বিভিন্ন জায়গায় বেড়াতে নিয়ে যায়। যেতে ইচ্ছে করে না, তাও মেয়ের মন রাখার জন্য যাই। এখন আমাকে আর প্লেনে ওঠার ভয় তাড়া করে না। যখনই বিমানে উঠি আর তখনই মনে পড়ে যায়, সোহেল কীভাবে আমার ভয় কাটাতো। আমার ছেলেমেয়েরা তার বাবাকে নিয়ে সব সময় গল্প করে। তখন কষ্টটা আরো বেশি বেড়ে যায়। তার মৃত্যুর সময় আমার মেয়েটা বুঝতে শিখে গিয়েছিল। তার সব মনে আছে। যে কারণে কথার শেষ থাকে না তার। তিনি আরো বলেন, কোনো রেস্টুরেন্টে গেলেও তার কথা মনে পড়ে। যে কারণে এখন কোনো রেস্টুরেন্টে যাই না। আমি এখন ৬০-৭০ বছরের মহিলারা যেমন লাইফ লিভ করে, তেমনি লাইফ লিভ করি। দিতি আপা বলেন, তাকে হত্যার পর অনেকগুলো দিন চলে গেছে। কোনো বিচার দেখতে পেলাম না। আমরা চাই তার হত্যাকারীদের বিচার হোক। তিনি বলেন, সোহেল হত্যার পর থেকে সব সময় ইনসিকিউরড ফিল করি। কেন জানি না এমন হয়। দেশের পরিস্থিতি কখন কী হয় তা নিয়ে চিন্তা করি। দুটো সন্তানকে আগলে রাখছি। আমার ছেলেমেয়ে একেবারেই অন্য রকম। খুব শান্তশিষ্ট। মা হিসেবে আমি ওদের নিয়ে গর্বিত।’

দিতি আপা সেদিন জানিয়েছিলেন, ১৯৯৮ সালে চিত্রনায়ক সোহেল চৌধুরী নিহত হন। এরপর থানায় মামলা হয়। কিন্তু ২০০৪ সাল থেকে মামলাটির বিচার কার্যক্রম স্থগিত হয়ে যায়। সেদিন তিনি আরো বলেছিলেন, ‘সোহেলের মৃত্যুর পর তার বাবা অসুস্থ হয়ে বিছানায় পড়ে যান। শেষ পর্যন্ত তিনি সেই শোকেই ২০০১ সালের দিকে মারা যান। সোহেলের মা নূরজাহান বেগমও খুব অসুস্থ। সোহেলের বাবা জীবিত থাকার সময় হত্যাকারীদের বিচার দেখে যাওয়ার জন্য খুব চেষ্টা করতেন। কিন্তু তিনি তা দেখে যেতে পারেননি।’ দিতি আপার কথা কোনোদিন ভুলতে পারবো না। কোনোদিন ভুলতে চাইও না। দিতি আপা আপনার আত্মা শান্তিতে থাকুক সেই কামনা করছি।

লেখক : সিনিয়র রিপোর্টার, দৈনিক কালেরকণ্ঠ

সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

বিশেষ রচনা-এর সর্বশেষ

হোম এইপক্ষ পাঠক সমাবেশ জন্মদিন আকাশলীনা মিনি সাক্ষাৎকার অল্পস্বল্প লোকেশন থেকে অঁভোগ ডায়েট অল ইন অল রান্না রূপচর্চা বিশেষ প্রতিবেদন ফিচার মুভিমেলা মুম্বাই হলিউড মুভিমেলা ডটকম সারেগারে নিকেটদেশ দূরদেশ অল্পস্বল্প অনুশীলন নতুন মুখ পেছনের মানুষ প্রোফাইল রঙ্গশালা আবৃত্তি ভ্রমণ সাক্ষাৎকার বিশেষ সম্পাদকীয় ঐতিহ্য বিশেষ রচনা সাহিত্য টেকভুবন ব্যক্তিত্ব নাচ প্রকৃতি ব্যবসায়-বাণিজ্য সংস্কৃতি ভুবনবিচিত্রা পুনশ্চ গ্যালারি

প্রধান সম্পাদক: আলমগীর হোসেন, সম্পাদ: ইকবাল খোরশেদ,

সম্পাদকীয় সহকারী: ফিরোজ সরোয়ার, ঊর্ধ্বতন সহ-সম্পাদক: শেখ সেলিম, প্রশান্ত অধিকারী, প্রতিবেদক: ফাতেমা ইয়াসমিন, আতিফ আতাউর, ঊর্ধ্বতন গ্রাফিক্স ডিজাইনারঃ মো. সাহাদাত হোসেন, গ্রাফিক্স ডিজাইনারঃ মনির হোসেন, কম্পিউটার সহকারীঃ চৌধুরী নূরজাহান বেগম, আলোকচিত্রী: জাকির হোসেন, বাণিজ্যিক ব্যবস্থাপকঃ মো. মোখলছেুর রহমান, সহকারী বাণিজ্যিক ব্যবস্থাপকঃ কাজী ইসরাইল পিরু, বাণিজ্যিক নির্বাহীঃ শহিদুল ইসলাম এমেল, মাহবুব আলম, সহকারী ব্যবস্থাপক, প্রশাসন ও হিসাবঃ মো. আমিনুল ইসলাম

বেল টাওয়ার (১৩ তলা), বাড়ি-১৯, সড়ক-১, ধানমন্ডি, ঢাকা।

মেইলঃ news@anandabhuban.com.bd, info@anandabhuban.com.bd, editor@anandabhuban.com.bd

কপিরাইট © 2019 আনন্দভূবন.কম কর্তৃক সর্ব স্বত্ব ® সংরক্ষিত। Developed by eMythMakers.com